বাংলাদেশের বৃহত্তম শিক্ষামূলক কমিউনিটিতে আপনাকে স্বাগতম!

দুঃখেৱ মত এত বড় পরশ পাথর আৱ নেই ভাবসম্প্রসারন


মানব চরিত্রের মর্যাদাপূর্ণ বিকাশের জন্য দুঃখকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হিসেবে বিবেচনা করা যায়। দুঃখ হল পরশ পাথরের মতো। তার সংস্পর্শে জীবন থেকে অসত্য দূর হয়ে খাটি সােনার রূপ লাভ করে। সেজন্য জীবনে সুখ উপভোগ করার সুযোগ গ্রহণ করা আবশ্যক। দুঃখের মাধ্যমে নিজের যথার্থ পরিচয় অনুধাবন করতে হবে।  মানুষের জীবনে সুখ দুঃখ পাশাপাশি বিরাজ করে। সুখে ভোগ বিলাসের জীবন ভাসিয়ে দিলে তাতে আনন্দ পাওয়া যায় সত্য, কিন্তু তাতে জীবনের স্বরুপ জানা যায় না। সুখের মাঝে জীবনকে চেনা যায় না। কিন্তু জীবনে সুখের আবির্ভাব ঘটে ভিন্ন বৈশিষ্ট্য নিয়ে। দুঃখে পড়ে মানুষ অসহায় অবস্থার সম্মুখীন হয়। তখন জীবনে আসে অনেক সকেট। মানুষকে তা মােকাবেলা করতে হয়। দুঃখ মােকাবেলা করার মধ্যে মানুষের প্রকৃতির পরিচয় পাওয়া যায়। অনেকে দুঃখে ভেঙে পড়ে। দুঃখের যন্ত্রণায় কারও জীবন ব্যর্থ হয়ে যায়। সাহসী মানুষ দুঃখকে মােকাবেলা করে তখন নিজে বলিষ্ঠ প্রত্যয়ে দুঃখ জয় করে সুখের মুখ দেখে। দুঃখ জয় করার মাঝে তার চরিত্রের গুণাবলির পরিচয় প্রকাশ পায়। অনেকে দুঃখকে জীবনে দুঃখই মনে করে না বরং দুঃখ দেখে সুখের সাধনায় নিয়ােজিত হয় । মানব চরিত্রের এই বিচিত্র স্বরূপ প্রকাশ দুঃথ মানুষকে মহত্ত্বর করে তােলে। দুঃখ পরশপাথরের মত মানুষকে নতুন জীবন দান করে। পরশপাথর লােহাকে সােনায় রূপান্তরিত করে। দুঃখও তেমনি জীবনকে নতুন চেতনায় উদ্দীপ্ত করে, জীবনকে নতুন রূপ দেয়। দুঃখ জীবনকে খাটি করে তােলে। দুঃখে পড়ে মানুষ নিজেকে চিনে। তার শক্তিসামর্থ্য ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় সুখের ভিতর দিয়েই উপলদ্ধি করা যায়। তাই দুঃখ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা মানুষের কর্তব্য।

Post a Comment

2 Comments Replies Comment