SkyIsTheLimit
Bookmark

রচনা পরীক্ষায় দুর্নীতি ও তার প্রতিকার

পরীক্ষায় নকল প্রবণতা 
বা নকলমুক্ত পরীক্ষা 
বা নকল প্রবণতা রােধের উপায়
ভূমিকা : প্রতিটি ছাত্রছাত্রীর জীবনের উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হল পরীক্ষা, এ পরীক্ষাই হলোে ছাত্রজীবনের মেধা যাচাইয়ের এক বিশেষ প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই কেবল শিক্ষার্থী জীবনের লন্ধজ্ঞানের পরিধি পরিমাপ করা যায়। আর এ জন্যেই পরীক্ষাকে মানবজীবনের মেধা যাচাইয়ের "কষ্টিপাথর" বলা যায়। কিন্তু দুঃখের বিষয় একটাই সে হল এ মেধা যাচাইয়ের একমাত্র মাপকাঠি বা "কষ্টিপাথর তাও নানা দুর্নীতির চরম শিকারে পরিণত। বাংলাদেশের সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের মূল কারণ নীতি বর্জিত যে কোন কাজকেই দুর্নীতি বলা হয়।
দুর্নীতির বর্তমান অবস্থা ও তার ক্ষতিকর পরিণাম : পরীক্ষায় দুর্নীতি প্রথা বর্তমান শিক্ষা সমাজে এক ভয়াবহ সংক্রামক ব্যাধি হিসেবে ধরা যায়। এটা এমন পর্যায়ে পৌছে গেছে যা শুধরে নিতে জাতীর বহু কষ্ট হতে পারে। এ দুর্নীতি প্রথা গােটা সমাজব্যবস্থায় সুচারুভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষিত মা-বাবা ও গৃহ শিক্ষক পরীক্ষার্থীর জন্য পরীক্ষার প্রস্তুতি হিসেবে নকল পরিকল্পনায় বিভাের থাকে, তাতে করে ছাত্ররা ঠিক সময়ে ঠিকভাবে পড়ালেখা করে পরীক্ষা দেওয়ার প্রয়ােজন মনে করে না। আমাদের দেশে পরীক্ষা প্রগ্রাটা শুধু মাত্র সার্টিফিকেট-এর জন্যই সীমাবদ্ধ। কুল কলেজে শিক্ষক শ্রেণীর শিক্ষকতাভাব খুব শৈথিল্যজনকভাবে ধরা যায়। প্রাইভেট শিক্ষকতায় তারা নির্ভর করে। শিক্ষকতাকে বেঁচে থাকার অবলম্বন হিসেবে বেছে নেয়। তাতে করে শ্রেণীকক্ষে উপযুক্ত শিক্ষাদানে ব্যর্থতা প্রকাশ পায়। অর্থের পরিমাণের উপর বর্তমান পরীক্ষার ফলাফল অনেকটা নির্ভর করে। ধনী শ্রেণীর পরীক্ষার্থীরা অর্থের বিনিময়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে এবং নকল করে পরীক্ষার খাতা জমা দেয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনকে কেন্দ্র করে ছাত্ররা পরীক্ষা কেন্দ্রে অবাধ নকলের সুবিধা নেয়। নকলে ধরা পড়লে ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষকদের হুমকির সম্মুখীন হতে হয়। তাই নকলপ্রবণতা হয়ে উঠে জমজমাট। অনেক সময় নকল বন্ধের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও ধর্মঘট পালিত হয়। মােটমুটি বর্তমান পরীক্ষা পদ্ধতি একটা ভয়াবহরূপে ফুটে উঠেছে।
পরীক্ষায় দুর্নীতির কারণ : বহুবিদ কারণে পরীক্ষায় দুর্নীতি হয়ে আসছে। যে সকল কারণে বর্তমানে পরীক্ষায় নকল ও দুর্নীতি ঘটছে তার মধ্যে প্রথমত এ দেশের ভেজাল শিক্ষা ব্যবস্থা। শিক্ষার সাথে উৎসাহমূলক কোন ব্যবস্থা নেই; আছে শুধু পরীক্ষা পাশের এক প্রতিযােগিতা দুর্নীতি প্রথা। ফলে ক্রমাগত সকল পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা পাশের তাগিদে দুর্নীতিতে যােগ দেয়। অভিভাবকদের একমাত্র চাওয়া থাকে যেন তাদের সন্তান পরীক্ষায় পাশ করে, কিন্তু কিভাবে করবে তার জন্য সুষ্ঠু কোন চিন্তা করে না। মেধাভিত্তিক কোন প্রশিক্ষণ প্রায় নাই বলেই তারা চূড়ান্ত মুহূর্তে পরীক্ষায় নকলের আশ্রয় নেয়। শিক্ষা যদি উৎসাহমূলক না হয় তবে ভালাে ফলাফল আশা করা যায় না। শিক্ষা ক্ষেত্রে ও ঘরে তেমন পড়া লেখার কোন প্রকার চাপও দেখা যায় না। শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়ােগের ব্যাপারে উচ্চ পর্যায়ের আমলা শ্রেণীর স্বজনপ্রীতি ও অর্থপ্রীতি প্রভাব বিস্তার করে যার জন্যে ভালােমন্দ বিচার করার উপায় থাকে না। ফলে, অনভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলী শিক্ষা দানে ব্যর্থ হয়।
প্রতিকারের উপায় : পরীক্ষায় যে হারে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিচ্ছে তাতে এর পরিণাম খুবই ভয়াবহ। এ ভয়াবহতার হাত হতে আমাদের দেশের ছাত্রসমাজকে রক্ষা করতে হবে। সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে হবে নিম্নের ধারাবাহিকতায়। যেমন— 
১। শিক্ষার সাথে উৎসাহমূলক পরিবেশ গড়তে হবে। 
২। ছােট থেকে ছাত্রছাত্রীদের দুর্নীতি সম্পর্কে ভয় ভীতি দেখাতে হবে।
৩। প্রাথমিক শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে ভালাে ভালাে শিক্ষক সরবরাহ করতে হবে। 
৪। উন্নত মনমানসিকতায় শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলো গড়তে হবে। 
৫। পাঠ্যসূচি এরূপ করতে হবে, যাতে নকল করার কোন সুযােগ না থাকে। 
৬। জ্ঞানভিত্তিক শ্রেণী বিবেচনা করে শিক্ষা দান করতে হবে। 
৭। প্রশ্নপত্রের মানগতভাবে সঠিক উত্তরের নিশ্চয়তা দিতে হবে। 
৮। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাড়াতে হবে যাতে সমভাবে জ্ঞানার্জন করা সম্ভব হয়। 
উপরােক্ত ব্যবস্থার মধ্যে হয়ত পরীক্ষায় দুর্নীতি রােধ করা সম্ভব হবে। অন্যথায় বল প্রয়ােগে কিছুই আশা করা যাবে না। 
উপসংহার : পরিশেষে এটাই বলা চলে যে, একমাত্র দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে পরীক্ষার দুর্নীতি বন্ধ করা যেতে পারে। যখন ইচ্ছে ঠিক তখনই এ দুর্নীতি মহামারি থেকে পরীক্ষার্থীগণকে বাদ দিয়ে ফেলে দেওয়া যাবে না। প্রথম থেকেই ছাত্রছাত্রীকে পড়ালেখায় অনুপ্রাণিত করে পরীক্ষায় দুর্নীতির কবল থেকে রক্ষা করতে হবে এবং দুর্নীতির কুফল সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। নকল করে পাস করা যায় কিন্তু শিক্ষিত হওয়া যায় না। তাই সবার প্রয়ােজন এ দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। পড়ালেখার মাধ্যমে যেন সবাই মানুষ হতে পারে।

লেখা-লেখি করতে ভালোবাসেন? লেখালেখির মাধ্যমে উপার্জন করতে যুক্ত হতে পারেন আমাদের সাথে Telegram এ!
Post a Comment

Post a Comment