বাংলাদেশের বৃহত্তম শিক্ষামূলক কমিউনিটিতে আপনাকে স্বাগতম!

নতুন বছর: অভ্যাসের নতুন শুরু!


আজ থেকে ঠিক ১ বছর আগে করা নিউ ইয়ার রেজ্যুলেশনের কয়টা ঠিকঠাক পুরো ২০১৯ জুড়ে মেনে চলতে পেরেছেন? নাকি ২০১৯ এর সাথে সাথে সেই রেজ্যুলেশনগুলোও হারিয়ে বসে আছেন? আচ্ছা, পুরোনোকে না হয় এবার ছুটিই দিয়ে দিই। ২০২০ এ সব শুরু হোক আবারও নতুন উদ্যমে, নতুন করে গড়ে তোলা যাক ভালো কিছু অভ্যাস। 

একজন শিক্ষক হিসেবে আমার সব সময়ের লক্ষ্য যাতে আমার পুরো বছরটা অনেক বেশি প্রোডাক্টিভ হিসেবেই কাটে। আর সেটা তখনই সম্ভব হবে যখন আমি আমার শিক্ষার্থীদের বছরটাও প্রোডাক্টিভ করতে সাহায্য করতে পারবো। এটাই আমার কাজ এবং একই সাথে লক্ষ্য। তাই নতুন বছরের রেজ্যুলেশনগুলো যাতে আর না হারিয়ে যায় তাই সমকালের পাঠকদের জন্যে আজ তুলে ধরছি একটি স্ট্র্যাটেজি যেটা আমার ক্ষেত্রে অনেক কাজে লেগেছে। নতুন বছরেও আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে এটা মেনে চলার।

একটা কাগজ কলম নিয়ে বসুন, যাতে করে আর্টিকেলটা পড়া শেষ করেই স্ট্র্যাটেজি অনুযায়ী প্ল্যানটা করে ফেলতে পারেন। কারণ Sometimes later becomes never. তাই, সাথে সাথেই যা করার করতে হবে। 

স্ট্র্যাটেজিটায় মূলত আমাদের নিজস্ব অর্থাৎ ব্যক্তিগত আর পেশাগত এই দুটি জীবনের প্রতিটিতে ৩ টি করে গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে মোট ৬ টা দিক রয়েছে। আমাদের পেশাগত জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৩ টি ব্যাপার হলো: আমাদের কাজ কিংবা পড়াশোনা, অর্থ ব্যবস্থাপনা, আত্ম-উন্নয়ন অন্যদিকে ব্যক্তিগত জীবনের ৩ টি প্রধান দিক হলো স্বাস্থ্য, পরিবার এবং ধর্মীয় অর্থাৎ আধ্যাত্মিক উন্নয়ন।

এবার এই ৬ টি দিকের প্রতিটির জন্যে আপনার নিজের অভ্যাস আর ইচ্ছা অনুসারে আপনাকে ৩ টি করে বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করতে হবে। একটা ভালো অর্থাৎ আগের বছরও ঠিকমতো মেনে চলেছেন এবারও চালিয়ে যেতে চান এমন, আরেকটা খারাপ অর্থাৎ আপনি বাদ দিতে চাইছেন এমন কোনো অভ্যাস বা কাজ, এবং আর একটা নির্দিষ্ট অভ্যাস যেটা আপনি এ বছরে গঠন করতে চান নতুন করে।  

প্রথমেই পেশাগত জীবন নিয়ে কথা বলা যাকঃ আমি যদি আমার জীবন থেকে উদাহরণ দিই তাহলে বোঝাটা সহজ হবে। আমি তো প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার পাট চুকিয়েছি বছর কয়েক হলো। আমার বেলায় এখানে কাজটাই প্রাধান্য পাবে। যারা পড়াশোনা করছেন তারা এখানে পড়াশোনাটাকেই প্রাধান্য দিন। 

কাজের ক্ষেত্রে আমার সবচেয়ে কার্যকর অভ্যাস হলো, প্রতিদিনের কাজের তালিকা রাখা। রোজ রাতে ঘুমানোর আগে পরদিন কী কী কাজ আছে সেটার একটা তালিকা করে রাখুন। এবং সেটা মিলিয়ে মিলিয়ে কাজ করুন। তাহলেই আর কাজ না হওয়ার পেছনে অবান্তর অজুহাত দিতে হবে না। আমরা কাজ বা পড়াশোনার খাতিরে প্রচুর রাত জাগি। এই অভ্যাসটা বাদ দিতেই হবে। একদম ঠিকঠাকমতো গুগল ক্যালেন্ডার মেনে চলার অভ্যাস করুন। আমাকে প্রায়ই বিভিন্ন জায়গায় ইভেন্টে যেতে হয়, মিটিং থাকে। এই কাজগুলো আরো ভালোভাবে ট্র্যাক করার জন্যে গুগল ক্যালেন্ডার বেশ কাজের। নতুন বছরের নতুন অভ্যাস হিসেবে এই ক্যালেন্ডার মেনে চলার অভ্যাসটা করে ফেলুন। এই গুগল ক্যালেন্ডারের যথাযথ ব্যবহার আপনার জীবনটাই সহজ করে দেবে। 

ছোটবেলা থেকে শুনে আসা “অর্থই অনর্থের মূল”- কথাটার সাথে পুরোপুরি একমত নই আমি। তবে অর্থের ব্যবস্থাপনায় গোলমাল হলে সেখানে যে অনর্থ বাঁধবে এই ব্যাপারে দ্বিমতের সুযোগ একেবারেই নেই। তাই এখন থেকে টাকা-পয়সার ব্যবস্থাপনা ঠিকমতো করা শুরু করে দিন। আয়কর, বিভিন্ন বিল আদান-প্রদান সংক্রান্ত ব্যাপারগুলো ভালোভাবে শিখে নিন। আমাদের অনেকেরই খরচের কোনো হদিস নেই। কোথায়, কখন, কেন, কত, খরচ করেছি সেটার কোনো হিসেব রাখা হয় না একেবারেই। এটা আর  করা যাবে না। গুগল প্লেস্টোর বা অ্যাপ স্টোরে “Wallet” নামে একটি অ্যাপ আছে, এটা আপনাকে টাকা পয়সার হিসাব ঠিকঠাকমতো রাখতে সাহায্য করবে। নতুন বছরে “Wallet” অ্যাপটাও ঠিকমতো ব্যবহার করার অভ্যাস করতে পারেন। 

এবার আসা যাক আত্ম-উন্নয়নের দিকেঃ যাদের নিবাস জ্যামের নগরীতে তখন প্রায় সব গন্তব্যেই যেতে একটা আর আসতে একটা করে অডিওবুক শোনা সম্ভব। যাদের বই পড়ার অভ্যাস নেই তাঁরা গল্প শোনার মতো করে অডিওবুক শুনতেই পারেন। আত্ম-উন্নয়ন সংক্রান্ত গবেষণায় কিছুটা এলোমেলোভাবে সময় দিই আমরা অনেকেই। কখনও দেখা যায় রাত পেরিয়ে ভোর হয়ে যায় একটা কাজের জন্যে গবেষণা করতে করতেই আবার কোনো কোনোদিন একেবারেই কিছু করা হয় না। আত্ম-উন্নয়নমূলক গবেষণাতেও রুটিন করে সময় দেওয়া প্রয়োজন। আর চেষ্টা করুন বই পড়ার অভ্যাসটা পাকাপোক্ত করার। শুরুটা হোক ছোট্ট করে, সপ্তাহে ১ টা করে বই। ৫২ সপ্তাহের ১ টা বছরে ৫২ টা বই পড়া শেষ হয়ে যাবে। এই এক বই পড়ার অভ্যাস থাকলে পুরো প্রজন্মের অধিকাংশের থেকে আপনি কতখানি এগিয়ে থাকবেন সেটা চিন্তাও করতে পারবেন না। 

এবার আসি নিজস্ব অর্থাৎ ব্যক্তিগত ব্যাপারগুলো নিয়েঃ স্বাস্থ্যের দিকে নজর দেওয়াটা অনেক বেশি জরুরি। এই প্রজন্মের অনেকেই সকালের নাস্তা করার ব্যাপারটা নিয়ে বেশ উদাসীন। সকালের নাস্তা করার অভ্যাস করে ফেলুন। ফাস্ট ফুড খাবার বদভ্যাস যাদের আছে কমিয়ে ফেলুন। আর নতুন বছরে কোনো কোমল পানীয় নয়। বেশ কঠিন একটা সিদ্ধান্ত, তবে অসম্ভবও তো নয়। 

পরিবার আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পরিবারের ব্যাপারে চিন্তা করতে গেলে দেখবেন অনেকেই বলার মতো কিছু করেননি। পরিবারকে সময় দিন। এই বছর চেষ্টা করুন যাতে অন্তত রাতের খাবারটা পরিবারের সাথে করতে পারেন। 

এবার আসা যাক সর্বশেষ ব্যাপারটায়। আধ্যাত্মিক শব্দটা বেশ ভারিক্কী ধরণের মনে হলেও এই দিকটায় উন্নতি করা গেলে জীবনের অন্য দিকগুলোও সহজ হয়ে যায়। আমাদের সবারই উচিত নিজের ধর্মীয়  কাজগুলোতে দিনের কিছুটা সময় হলেও দেওয়া। আর যার যার ধর্মগ্রন্থগুলো বুঝে পড়ার চেষ্টা করুন কারণ এগুলো একেকটা জ্ঞানের বিশাল ভাণ্ডার। 

আপনার মন্তব্যটি করুন (0)

আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিন, অন্যদের মতামত দেখুন


close
close