SkyIsTheLimit
Bookmark

রচনা জীবাশ্ম জ্বালানি ও ভবিষ্যৎ পৃথিবী

ভূমিকা: মানবসভ্যতার ইতিহাস ঘেঁটে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন আগে মানুষ জীবাশ্ম জ্বালানি সম্পর্কে তেমন একটা জানত না। এর পরও তখনকার মানুষ কিছু জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করত। তবে বর্তমানের মানুষের মতাে এর ওপর অতি নির্ভরশীল ছিল না। চতুর্দশ শতাব্দীর ব্রিটেনে কয়লার কিছু ব্যবহার দেখা যায়, যা অষ্টাদশ শতাব্দীতে বৃদ্ধি পায়। তবে ওই সময় পর্যন্ত একে নােংরা হিসেবেই গণ্য করা হতাে। বিংশ শতাব্দী পর্যন্ত বিশ্বে অধিকাংশ মালপত্র বহন ও বাণিজ্য ছিল নৌপথভিত্তিক। আর সপ্তাদশ শতাব্দীতে বায়ুপ্রবাহ ও পানির স্রোত ব্যবহার করে কিছু কারখানা গড়ে ওঠে, যা একবিংশ শতাব্দীর শুরুতেও দেখা গেছে। 
জীবাশ্ম জ্বালানি: জীবাশ্ম জ্বালানি হল এক প্রকার জ্বালানি যা অবাত পচন প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়। মৃত গাছের পাতা, মৃতদেহ ইত্যাদি জীবনের উপাদান হাজার হাজার বছর ধরে মাটির নিচে চাপা পড়ে এ জ্বালানি তৈরি হয়। এ প্রক্রিয়ায় জ্বালানি তৈরি হতে মিলিয়ন বছর লাগে, সাধারণত ৬৫০ মিলিয়ন বছর। জীবাশ্ম জ্বালানিতে উচ্চ পরিমাণে কার্বন থাকে। কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, খনিজ তেল ইত্যাদি জীবাশ্ম জ্বালানি। জীবাশ্ম জ্বালানি পৃথিবীর সকল জায়গায় পাওয়া যায় না। যে দেশে পাওয়া যায় তার ওপর অন্যান্য দেশ নির্ভর করে। 
আধুনিক সভ্যতা ও জীবাশ্ম জ্বালানি: আধুনিক মানবসভ্যতা যতদূর জানা গেছে, তাতে এ মহাবিশ্বে আমাদের সৌরজগতের অন্তর্গত পৃথিবী নামের গ্রহটিই প্রাণীদের বসবাসের জন্য অনুকূল একমাত্র গ্রহ। তবে অসীম ও ক্রমসম্প্রসারণশীল এ মহাবিশ্বের অধীনে লাখাে কোটি সৌরজগতের অন্য অনেক গ্রহেও প্রাণের অস্তিত্ব থাকতে পারে। কিন্তু সেই কল্পনা এখনাে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী আর চলচ্চিত্রের মাঝেই সীমাবদ্ধ। মানবজাতি জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে ক্রমবর্ধমান উন্নয়নের মাধ্যমে আজকের এ ইলেকট্রোমেকানিক্যাল ও সুপারসনিক সভ্যতার কাছে পৌঁছেছে। একদা পুরনাে পাথর, নতুন পাথর, লৌহ ও ব্রোঞ্জ যুগে আমাদের এ গ্রহটি হিংস্র বন্যপ্রাণী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল। প্রায় তিন হাজার বছর ধরে মানবসভ্যতার উন্নয়ন যতটা ব্যাপকতা ও সর্বজনীনতা পেয়েছে, তার আগে ততটা ছিল না। বিশেষ করে সপ্তম থেকে পঞ্দশ শতাব্দী পর্যন্ত আজকের আধুনিক সভ্যতার ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল, যা সপ্তদশ শতাব্দীতে কয়লার মতাে জীবাশ্ম জ্বালানি আবিষ্কারের মাধ্যমে ইউরােপীয় রেনেসাঁ এবং আধুনিক শিল্প বিপ্লব ব্যাপক গতি লাভ করে। 
জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ও অস্তিত্ব সংকটে পৃথিবী: আমরা জানি, হাইড্রোকার্বন ডিপােজিট, যেমন- পেট্রোলিয়াম, কয়লা বা প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎস হচ্ছে শত শত বছর ধরে ভূগর্ভে সঞ্চিত প্রাণী ও উদ্ভিদের মৃতদেহ। জীবাশ্ম জ্বালানি দ্বারা সৃষ্ট কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং অন্যান্য গ্রিনহাউজ গ্যাস বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রধানতম কারণ হিসেবে বিবেচিত এবং প্রমাণিত। অথচ সেই সস্তা আর নােংরা জীবাশ্ম জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন ও বেপরােয়া ব্যবহার বেড়েই চলেছে, যা আমাদের এ সবুজ গ্রহকে উষ্ণ করে তুলছে, জলবায়ু আর বায়ুমণ্ডল বৈরীভাবাপন্ন হয়ে উঠছে; আকস্মিক বন্যা, জলােচ্ছ্বাস, ভূমিধস, ভূমিকম্প প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ সারা পৃথিবীতে অস্বাভাবিক ও অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়ে চলেছে। সম্পদের প্রতি মানুষের সীমাহীন লােভ, জীবাশ্ম জ্বালানির বেপরােয়া ব্যবহার, ব্যাপক নগরায়ণ ও শিল্পায়ন, বনভূমি ধ্বংস প্রভৃতি আমাদের এ পৃথিবীকে জীবনধারণের অনুপযােগী করে তুলছে। তাছাড়া জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণ দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এর ভূগর্ভস্থ রিজার্ভও শিগগিরই শেষ হয়ে যাবে। এমনই বাস্তবতায় এ পৃথিবীতে আধুনিক মানবসভ্যতার অস্তিত্ব বজায় রাখার জন্য বিকল্প জ্বালানি আবিষ্কারের কোনাে বিকল্প নেই। 
বৈশ্বিক জলবায়ুতে বিরূপ প্রভাব: বর্তমান মানবসভ্যতা গড়ে উঠেছে তেল, কয়লা ও গ্যাস ইত্যাদি জীবাশ্ম জ্বালানির ভিত্তিতে। আমরা শুধু শক্তির জন্যই এসব জ্বালানির ওপর নির্ভর করি না, জীবনের সব ধরনের কর্মকাণ্ডে এসব জ্বালানি ব্যবহার রয়েছে। এমনকি খাবার প্রস্তুতেও। তবে এসব জ্বালানির কারণে পৃথিবীর জলবায়ুর ওপর বেশ নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বৈশ্বিক উষ্ণতাও বাড়ছে। তার পরও জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বাদ দেওয়া সহজ নয়। বর্তমান বৈশ্বিক উষ্ণায়নের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবে সমুদ্র সমতলের উচ্চতা বৃদ্ধি, বন্যা, মেরু অঞ্চলের বরফের ক্যাপ ও হিমবাহের গলে যাওয়া, খরা, তাপ ও শৈত্যপ্রবাহ, এল-নিনাে ও লা-নিনার কারণে সৃষ্ট অস্বাভাবিক বায়ুপ্রবাহের কারণে দক্ষিণ আমেরিকা আর প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অতিবৃষ্টি, খরা প্রভৃতি দেখা দিচ্ছে। যদি এ প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তাহলে ২১০০ সালের মধ্যে পৃথিবীর তাপমাত্রা ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড ৫.৪) কে ৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট) পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা কমপক্ষে ২৫ মিটার ৮২) ফুট) পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশ্বব্যাপী উষ্ণতা বৃদ্ধির আরেকটি প্রভাব হিসেবে ম্যালেরিয়ার মতাে সংক্রামক রােগগুলাে এমন এলাকায় ফিরে আসছে, যেখানে তা আগেই বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল‌। 
জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প হতে পারে বিদ্যুৎ শক্তি: বিজ্ঞানীদের মতে, জীবাশ্ম জ্বালানিবিহীন পৃথিবীর কথা কল্পনা করা হলে প্রথমেই বিকল্প জ্বালানি হিসেবে মনে হয় বিদ্যুৎ শক্তির কথা। বাস্তবিকই এটি হতে পারে জীবাশ্ম জ্বালানির একমাত্র বিকল্প। আর বিদ্যুৎ তৈরির জন্য ব্যবহার হতে পারে নবায়নযােগ্য শক্তি বায়ুপ্রবাহ, পানির স্রোত, সূর্যের আলাে ইত্যাদি। তখন শহরে প্রধান যানবাহন হিসেবে থাকবে বিদ্যুৎ-চালিত ট্রেন ও বাস। এ ছাড়া বিদ্যুৎ-চালিত গাড়ি, বিমানপ্রযুক্তিরও যথেষ্ট পরিবর্তন ঘটবে। আন্তর্জাতিক মালামাল পরিবহন অনেকাংশেই হবে নৌপথে। যেখানে বায়ুশক্তিচালিত জাহাজ চলাচল করবে। এই কারণে প্রচুর নদী ও খাল সৃষ্টি করা হবে। অনেকের মতে, সস্তা জীবাশ্ম জ্বালানির কারণে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস ব্যবহারের প্রযুক্তির যথেষ্ট উন্নতি হয়নি। তবে জীবাশ্ম জ্বালানি না থাকলে স্বাভাবিকভাবেই এমন প্রযুক্তির যথেষ্ট উন্নতি দেখা যাবে। বিশ্বে অনেক স্থানে এখনই সৌরশক্তি ব্যবহার করে রান্না করা হয়। ভবিষ্যতে সৌরশক্তি ব্যবহারের প্রযুক্তির উন্নতি ঘটলে এটি ব্যবহার করে শিল্প-কারখানাও গড়ে উঠতে পারে। বর্তমান বিশ্বে মােট উৎপাদিত বিদ্যুতের ১৬ শতাংশই আসে জলবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে। পৃথিবীর অনেক স্থানে জলবিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানাে যায়। 
জীবাশ্ম জ্বালানি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ:ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালের মধ্যে সামগ্রিক বৈশ্বিক জ্বালানি শক্তির উৎসগুলাের প্রায় এক-চতুর্থাংশ হবে নবায়নযােগ্য সৌরশক্তি ও বায়ুশক্তি। এরই মধ্যে সৌরশক্তি ও রায়ুশক্তি নবায়নযােগ্য জ্বালানি শক্তির উৎস হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাসকে অতিক্রম করেছে, পারমাণবিক শক্তির দ্বিগুণের চেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে এবং কয়লার পরেই নবায়নযােগ্য জ্বালানি শক্তির বড় উৎস হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। সৌর ও বায়ুশক্তির মতাে নন-হাইড্রো নবায়নযােগ্য শক্তি ২০১৮ সালের শেষ নাগাদ ৪ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আশা করেছেন বিশেষজ্ঞরা। জলবায়ু সম্মেলন প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হলেও ২০১৫ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত সর্ববৃহৎ সম্মেলন বিশ্বের সব নেতাকে পরিবেশ রক্ষায় একটা চুক্তির ভিত্তিতে ঐকমত্যে পৌছতে সাহায্য করেছে। অনেক পর্যবেক্ষক ও বিশ্বনেতা একে ঐতিহাসিক, যুগান্তকারী, সর্বজনীন ও উচ্চাভিলাষী একটি চুক্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন। সেই সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত ঘােষণাগুলাের মধ্যে ছিল গ্রিনহাউজ গ্যাস - নির্গমন এ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধের মধ্যে অর্ধেকে নামিয়ে আনা, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা এবং সেটাকে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে নামিয়ে আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা, প্রতি পাঁচ বছর অন্তর অগ্রগতি পর্যালােচনা করা ২০২০,সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলাের জন্য ১০০ বিলিয়ন ডলারের একটা জলবায়ু তহবিল গঠন করা এবং ভবিষ্যতে প্রয়ােজনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলােকে আরাে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা ‌। 
জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতা অনুধাবনে ব্যর্থতা: ১৯৯৭ সালে জাপানে। অনুষ্ঠিত কিয়ােটো জলবায়ু সম্মেলনে অনেক দেশই একমত হয়েছিল যে, তারা ২০১২ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ ১৯৯০ সালের মাত্রায় নামিয়ে আনবে। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতাে বৃহৎ কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলাে ও অনেক উন্নয়নশীল দেশ কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ কমানোের এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানায়।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ট্রাম্প প্রশাসন, বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে এ কথা বিশ্বাসই করতে চাইছেন না যে, কার্বন নিঃসরণ, শিল্পদূষণ ও বিভিন্ন ধরনের গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমনের কারণে এ পৃথিবী ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। অধিকন্তু, তারা এর গুরুত্ব অনুধাবনে ব্যর্থ হয়ে জলবায়ু ও কার্বন নিঃসরণ কমাননাসংক্রান্ত এরই মধ্যে স্বাক্ষরিত নানা চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসারও হুমকি দিচ্ছেন। কিয়ােটো কনফারেন্সে অনেক ধনী ও উন্নয়নশীল দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের কঠিন পরিণতি অনুভব করতে পারেনি। কিন্তু গত কয়েক বছরে কার্বন নির্গমন এবং পরবর্তীতে গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন আকস্মিক বন্যা, জলােচ্ছ্বাস, ভূমিধস, ভূমিকম্প, তাপপ্রবাহ, শৈত্যপ্রবাহ প্রভৃতির প্রভাবে অনেক উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর এ কারণেই ভবিষ্যতে আরাে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হ্রাসে ওইসব দেশ প্যারিস জলবায়ু সম্মেলনে কার্বন নির্গমন কমাতে একটা চুক্তিতে পৌছতে বাধ্য হয়েছিল। 
উপসংহার: বাস্তবতা যা-ই হােক না কেন, পৃথিবীর অন্য শক্তিশালী দেশগুলােকে পরিবেশ দূষণ ও বৈশ্বিক উষ্ণতাসংক্রান্ত যেকোনাে ধরনের নির্বুদ্ধিতা ও অর্বাচীনতার বিরুদ্ধে একতাবদ্ধ হতে হবে। মানবসভ্যতাকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষার জন্য এবং একই সঙ্গে এ সবুজ গ্রহকে প্রাণিজগতের বসবাসের জন্য অনুকূল রাখতে কার্বন ও অন্যান্য গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণের পরিমাণ অবশ্যই সহনীয় পর্যায়ে রাখতে হবে, যতক্ষণ পর্যন্ত পৃথিবীর মতাে অন্য কোনাে অনুকূল গ্রহ আবিষ্কৃত না হয়। এ দৃশ্যকল্প বাস্তবায়নের জন্য শক্তির উৎস হিসেবে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ক্রমে কমিয়ে এনে পরিবেশবান্ধব বিকল্প ও নবায়নযােগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। আজকের বিশ্বে সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে চলছে।

লেখা-লেখি করতে ভালোবাসেন? লেখালেখির মাধ্যমে উপার্জন করতে যুক্ত হতে পারেন আমাদের সাথে Telegram এ!
Post a Comment

Post a Comment